Categories
Your Cart is empty
Quantity
USDA অনুযায়ী প্রতি ১০০ গ্রাম চিয়া সিড থেকে ৪৮৬ ক্যালরি পাওয়া যায়। এছাড়া সোডিয়াম ১৬ মি গ্রা, পটাশিয়াম ৪০৭ মি গ্রা, ডায়েটারি ফাইবার বা খাদ্য আঁশ পাওয়া যায় ৩৪ গ্রাম। একই সাথে ফসফরাস, কপার, সেলেনিয়ামের মতন ট্রেস মিনারেলেরও এক চমৎকার উৎস এই বীজ। এছাড়াও এতে রয়েছে ওমেগা -৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সহ ভিটামিন ও মিনারেল। চিয়া সিডের পুষ্টিগুণের ব্যাপারে তো জানা গেলো, এবার নজর দেওয়া যাক এর স্বাস্থ্য উপকারিতার দিকে।
চিয়া সিডে উপস্থিত ওমেগা -৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তে কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমায়, হৃদকম্পন স্বাভাবিক রেখে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখে। একই সাথে রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিহত করে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
চিয়া সিডে বিদ্যমান ফাইবার মূলত অদ্রবনীয় খাদ্য আঁশ এবং মিউসিলেজ প্রকৃতির। এই ফাইবার রক্তের শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর গতি সম্পন্ন করে তোলে ফলে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
The Nurse’s Health Study এর এক গবেষণায় দেখা যায় যারা আলফা লিনোলেনিক অ্যাসিড অধিক পরিমাণে গ্রহণ করে তাদের ৪০ শতাংশের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি হ্রাস পায়। এছাড়াও ৬৫ বছর বয়স বা তার উর্ধ্বের ৫০০০ হাজার জন পুরুষ ও মহিলার উপর করা অন্য একটি গবেষণায় দেখা যায় যারা আলফা লিনোলেনিক অ্যাসিড গ্রহণ করে তাদের মধ্যে ৫০ শতাংশের এস্কেমিক হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি হ্রাস পায়।
চিয়া সিডে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ওমেগা -৩ ফ্যাটি অ্যাসিড দেহের প্রদাহ হ্রাস করে। যার ফলে ক্যান্সারের মত প্রাণঘাতী অসুখের বিরুদ্ধেও দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
চিয়া সিডে ফাইবার থাকায় তা পরিতৃপ্তি দেয়। ফলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে যা ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
চিয়া সিড সবসময়ই পানি বা কোন তরলে ভিজিয়ে কিছুক্ষণ রেখে এরপর গ্রহণ করা উচিৎ। কেননা হাইগ্রোস্কোপিক বা তরল শোষক জাতীয় হওয়ায় শুকনো চিয়া সিড গ্রহণ করলে তা মুখের লালার সাথে মিশে খানিকটা ভিজে যাওয়ায় গিলতে গিয়ে গলায় আটকে যেতে পারে বা শ্বাসতন্ত্রে গোলযোগ ঘটতে পারে।
পানি বা অন্য তরল পদার্থে ভিজিয়ে রাখা চিয়া সিড বিভিন্ন ফলের সাথে মিলিয়ে ফ্রুট কাস্টার্ড, ফ্রুট সালাদ বা স্মুদি তে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়েও গ্রহণ করা যায়৷ তবে সকালে খালি পেটে গ্রহণ করলে কিছুটা সময় ক্ষিদা নিবৃত্ত করে যা ওজন নিয়ন্ত্রণে খানিকটা ভূমিকা রাখে।
চিয়া সিডের অনেক উপকারিতা থাকা স্বত্ত্বেও এর কিছু অপকারী দিকও রয়েছে। এক নজরে সেগুলো জেনে নেওয়া যাক –
মাত্রাতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো নয়, একই কথা প্রযোজ্য চিয়া সিডের ক্ষেত্রেও। তাই অধিক স্বাস্থ্য উপকারী খাবার বিবেচনায় মাত্রাতিরিক্ত গ্রহণ না করে দিনে ১-২ চা চামচের বেশি গ্রহণ না করাই উত্তম।
চিয়া সিড নিঃসন্দেহে বেশ উপকারী খাদ্য উপাদান। এর পুষ্টি মান ও গুণাগুণ সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে অবশ্যই ঢালাওভাবে গ্রহণ না করে একজন অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন এবং চিয়া সিড কোথা থেকে কিনছেন তা খেয়াল করে কিনুন। কেননা ভেজালের মিশ্রণে এই উপকারী খাবারটিও হয়ে উঠতে পারে স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।
Customer Review